যেই সমকামিতা নিয়ে সারা পৃথিবীতে এত হইচই হচ্ছে, তারা আসলে সমকামী না তারা হল উভকামী!
==============================
খুশবন্ত সিং ভারতের একজন শীর্ষস্থানীয় লেখক ও সাংবাদিক। খুশবন্ত সিং এর “দিল্লী” উপন্যাস টা যারা পড়েছেন তারা জানেন যে এই দিল্লী উপন্যাসে ভাগমতী নামে একটি হিজড়া চরিত্র আছে। দিল্লীর বিভিন্ন পশ্চিমা দূতাবাসের অনেক সমকামী কর্মকর্তারা এই ভাগমতী হিজরাকে ব্যবহার করত। এই ভাগমতী হিজরা টাকার বিনিময়ে অনেক সমকামী ব্যক্তিদের সাথে মিলিত হত। খুশবন্ত সিং এর “দিল্লী” উপন্যাসে ভাগমতী সমকামী বা Gay দের ব্যাপারে বলেছেন যে -"অদ্ভুদ উপায়ে এই সমকামী ব্যক্তিরা আমার সাথে তাদের বিকৃত যৌনরুচি চরিতার্থ করত।"
হুমায়ন আহমেদের “কবি” উপন্যাসটা যারা পড়েছেন তারা জানেন যে বাংলাদেশের অনেক সরকার অনুমোদিত নিষিদ্দ পল্লীতে মেয়ে যৌণকর্মীদের সাথে অনেক হিজরারাও থাকে। সারাদেশ থেকে সমকামী ব্যক্তিরা এই সব হিজরাদের কাছে আসে। পিতার সরকারি চাকুরি করার সুবাদে আমি বাংলাদেশের ৮ টা জেলায় ছিলম। দুঃখজনক হলেও সত্য যে আমার পিতা যে ৮ টা জেলায় ছিলেন এর মাঝে ৩ টা জেলাতেই সরকার অনুমোদিত নিষিদ্দ পল্লী আছে। আমি সেই ৩ টা জেলার নাম বলে ঐ জেলাবাসীদের কে লজ্জা দিতে চাই না। হুমায়ন আহমদ Sir এর "কবি" উপন্যাসে উনি যেই কথাটা বলেছিলেন যে বিভিন্ন নিষিদ্ধ পল্লীতে মেয়ে যৌণকর্মীদের সাথে অনেক হিজরারাও থাকে এই কথার চাক্ষুষ প্রমান আমি নিজেও পেয়েছি। ছেলে সমকামী বা Gay দের কাছে এই হিজরা ব্যক্তিদের কিন্তু খুব চাহিদা।
উপন্যাসিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে উপন্যাসিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন যে উনার পরিচিত আমেরিকান অনেক কবি সাহিত্যিক যাদের কে প্রথমে উনি Gay জানতেন কিন্তু পরে উনি দেখেন যে উনারা মেয়েদের সাথেও মিলিত হয়। আমেরিকান অনেক Gay কবি সাহিত্যিকদের পুরুষ ও মহিলা উভয় ধরনের sex Partner ই আছে। লুত আলাইহিস সাল্লামের ক্বওমের অনেক লোকই সমকামী ছিল এটা আমরা জানি। কিন্তু লুত আলাইহিস সাল্লামের ক্বওমের মাঝে কিন্তু অনেক শিশুও ছিল। তাইলে বুঝা যাচ্ছে যে লুত আলাইহিস সাল্লামের ক্বওমের লোকদের মাঝে বিয়ে সংসারও হত। আসলে লুত আলাইহিস সাল্লামের ক্বওমের লোকেরাও স্ত্রী পুরুষ উভয় শ্রেণীর লোকদের সাথেই বিছানায় শুইত। মূলত লুত আলাইহিস সাল্লামের সম্প্রদায়ের মাঝে যারা সমকামী ছিল তারা pedophilia বা শিশু যৌন নির্যাতন করত। আর সমকামীদের sex এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হল যে তারা পেডোফিলিয়া বা শিশুদের উপর যৌন নির্যাতন করে। সমকামীরা শুধু হিজরা না শিশুদের সাথেও তাদের বিকৃত রুচি চরিতার্থ করে।
অর্থাৎ যেই সমকামিতা নিয়ে সারা পৃথিবীতে এত হইচই হচ্ছে কিন্তু একটু অনুসন্ধান করলেই দেখা যায় যে যাদের কে আমরা সমকামী বলছি তারা আসলে সমকামী না তারা হল উভকামী। তারা ছেলে, মেয়ে ও হিজরা উভয়ের সাথেই মিলিত হয়। হ্যাঁ এইকারনেই সমকামিতা কে পশ্চিমা বিশ্বের প্রথম শ্রেণীর বড় বড় সমাজবিজ্ঞানী থেকে শুরু করে মনোবিজ্ঞানীরা সমকামিতাকে একটা Psycho sexual Disorder অথবা একটা মানসিক রোগ অথবা একটা বিকৃত যৌনাচার বলেছেন।
২০১০ সালে আমি প্রথম চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ টা ভাংচুর ও একটা বিস্ফোরক মামলায় চট্রগ্রাম কারাগারে ১ মাস জেল খাটি। এরপর কিছুদিন আগেই তো কাশিমপুর কারাগারে আমি ৬ মাস জেল খেটে আসলাম। বাংলাদেশের জেল খানা গুলিতে সমকামিতা খুব স্বাভাবিক একটা ব্যাপার হিসাবে গন্য হয়। জেল খানার আসামী ও কয়েদীরা দীর্ঘ দিন নারীসঙ্গ থেকে বঞ্চিত থাকার কারনে অনেকেই সমকামী হয়ে যায়। জেল খানায় এসে যারা সমকামী হয়েছেন উনারা কিন্তু উনাদের জেল জীবনের আগের জীবনে সমকামী ছিলেন না। এবং জেল খাটা এই সমকামী আসামীরা যখন স্বাভাবিক দুনিয়ায় প্রবেশ করে তখন আর তাদের মাঝে কোন সমকামিতার বৈশিষ্ঠ থাকে না।
তাই সমকামিতা অবশ্যই একটা নিরাময় যোগ্য ব্যাধি। স্বাভাবিক যৌন জীবনের পরিবেশ পেলে জেল খানার এই আসামী ও কয়েদীরা কিন্তু কখনই সমকামী হত না।
কোন ছেলের মাঝে যদি সত্যিই কোন সমকামিতার বৈশিষ্ঠ থাকে তাইলে বিভিন্ন সাইকো কাউন্সেলিং এবং হোমিওপ্যাথির কিছু চিকিৎসা ঐ ছেলের সমকামিতা বৈশিষ্ঠ দূর করে দিবে।
ইউরোপের সুইজারল্যান্ড দেশটাতে অনেক সমকামী Gay এবং Lessbian উভয়টিই রয়েছে। কিন্তু আপনারা কি জানেন এই সুইজারল্যান্ডের অনেক হাসপাতালে এই সমকামী ব্যক্তিদের কে চিকিৎসা করে সুস্থ করা হয়। সুইজারল্যান্ডের Lausanne শহরে centre hospitalier universitaire vaudois (CHUV) যেটার ইংরেজি নাম University Hospital of Lausanne এ সমকামিতা রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসার জন্য একটি কাউন্সেলিং বিভাগ রয়েছে। সুইজারল্যান্ডের এই ফ্রেঞ্চ ভাষাভাষী শহরে অনেক সমকামী (গে এবং লেসবিয়ান) উভয়েই আছে। অনেক সমকামী সন্তানের বাবা-মা তাদের সন্তানদের মনোরোগ বিশেষজ্ঞের নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে এনেছেন। অনেক সমকামী ছেলেমেয়েরা এখন চিকিৎসা নিয়ে পরবর্তীতে বিপরীত লিঙ্গের বন্ধু বা বান্ধবী নিয়ে সুস্থ্ জীবন যাপনে অভ্যস্ত হয়েছেন। অনেক প্রাক্তন সমকামীই এখন বলে “জ্যা শঞ্জে লা ভি, মাতওন জ ভিভ মা ভি তখ্রে হখো।” অর্থাৎ, আমি আমার জীবনধারা পরিবর্তন করেছি এবং সুখী জীবনযাপন করছি। তাই সমকামিতা অবশ্যই একটি আরোগ্য-উপযোগী ব্যাধি যে কারণে হাসপাতালে এর চিকিৎসা এবং উপশম দুই-ই হচ্ছে। শুধু সুইজারল্যান্ড না ইউরোপের অনেক বড় বড় শহরেই সমকামীদের নিয়ে কাউন্সেলিং হয়।
কিন্তু আপনারা প্রায়ই দেখবেন যে নাস্তিকরা বলে সমকামীতা কোন মানসিক রোগ নয় এটা একটা স্বাভাবিক যৌন প্রবৃত্তি। বাংলাদেশের নাস্তিকদের প্রধান মুক্তমনার প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায়ের কথা হল কেউ যদি সমকামি হতে চায় তাইলে তাকে সমকামী হতে দাও। এমনকি অভিজিৎ রায় সমকামীদের পক্ষে কথা বলতে যেয়ে তাদের কে লিঙ্গ পরিবর্তন করে রুপান্তরকামীতা বা Transgender এর পক্ষে জোর দিয়েছেন। কিন্তু অভিজিৎ রায় একটুও চিন্তা করে দেখলেন না যে একটা ছেলে যদি তার লিঙ্গ পরিবর্তন করে মেয়ে হয় তাইলে এর পরে ঐ ছেলেটাকে কতটুকু শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। লিঙ্গ পরিবর্তন করার চেয়ে সমকামী বৈশিষ্ঠ সম্পন্ন কোন ব্যক্তির সাইকো থেরাপীর মাধ্যমে সুস্থ হওয়াই কি উত্তম নয় ? প্রথমদিকে সমকামিতার পক্ষে কথা বলতে যেয়ে অনেকেই গে জিনের কথা বলত। কিন্তু গে জিন বলতে যে কিছু নাই এটা এখন প্রমানিত। আর জিনগত কারনে আমাদের প্রত্যেকেরই মাঝে পূর্ব পুরুষদের কিছু খারাপ বৈশিষ্ঠ আসে। চুরি ডাকাতি মাদক সেবন ব্যভিচার এইসব করতে আমাদের অনেকেরই ইচ্ছা হয়। কিন্তু তাই বলে কি আমাদের মন চাইলেই আমরা এই কুকর্ম গুলিতে লিপ্ত হই ? যুক্তির খাতিরে যদি ধরেই নেই যে কোন ছেলের মাঝে গে জিন আছে তাইলে ঐ ছেলের পিতা মাতার উচিত ঐ ছেলেকে মানসিক কাউন্সিলং এর মাধ্যমে সুস্থ করা।
অনেকেই সমকামীদের সাথে হিজরাদের কে মিলিয়ে ফেলে। হিজরাদের কোন মানসিক সমস্যা নেই। হিজরাদের রয়েছে শারীরিক সমস্যা। তবে ইসলামী শরীয়তে হিজড়া বা তৃতীয় লিঙ্গ বলে কিছু নাই। ইসলামী শরীয়তে হিজরাদের কে হয় ছেলে নয় মেয়ে হিসাবে জীবন যাপন করতে হবে। ইসলামের প্রাথমিক যুগ থেকেই অনেক হিজরা মুসলমান হয়েছিলেন। খোদ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময়েও অনেক হিজড়া মুসলমান হয়েছিলেন। ঐ হিজড়ারা কিন্তু একজন পুরুষ ব্যক্তির মতই জীবন যাপন করে গেছেন। এবং মৃত্যুর পর ঐ হিজরাদের কে একজন পুরুষ মুসলমান হিসাবেই দাফন করা হয়েছিলেন। তাই হিজরাদের কে ঘৃণা করার কিছু নেই। তবে শতকরা ৯০ ভাগ হিজড়াকেই ছোটবেলায় অস্ত্রোপাচারের মাধ্যমে সুস্থ করা যায়।
সমকামিতা নিয়ে এটা আমার ২য় status. সমকামিতা নিয়ে আমার ১ম status টা পড়তে এই লিংকে যান https://www.facebook.com/
অনলাইনে বাংলাভাষায় সমকামিতার বিরুদ্ধে হাতে গোনা মাত্র কয়েকটা লেখা আছে। আমি চেষ্টা করছি বৈজ্ঞানিক ও সামাজিক দৃষ্টি ভঙ্গিতে সমকামিতা যে একটি বিকৃত যৌনাচার ছাড়া আর কিছু না এই বিষয়ে একটা ফেইসবুক NOTE লিখতে। তবে সমকামিতার বিরুদ্ধে লিখতে গেলে অনেক Wild কথাবার্তা এসে পড়বে। আশাকরি আপনারা আমার এই wild Talk গুলিকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন